দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গুদামে থরে থরে সাজানো মসলার বস্তা, বন্দরেও খালাসের অপেক্ষায় নতুন চালান। সরবরাহে নেই ঘাটতি। তবু পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামে লেগেছে আগুন। ডলারসংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার খোঁড়া অজুহাতে দুই মাস ধরেই অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে অত্যাবশ্যকীয় মসলার দাম। আর পাইকারি থেকে হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সেই দাম রূপ নিচ্ছে চরম অরাজকতায়; কোথাও কোথাও পাইকারি ও খুচরা দামের এই ব্যবধান ঠেকেছে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। ফলে কোরবানির আগেই অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। তবে দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসম্পাদক রেজাউল করিম আজাদের দাবি, পাইকারি আড়তে বর্তমানে যে পরিমাণ মসলা মজুত আছে এবং বন্দরে যে পরিমাণ চালান আসার অপেক্ষায় তা দিয়ে কোরবানির ঈদের চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। মজুত পর্যাপ্ত থাকায় সব মসলার দাম এখন নিম্নমুখী।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেন, দেশের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জে অর্থনৈতিক কারণের বাইরেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে সব সময়। তারা অজুহাত পেলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। হাতবদলের মাধ্যমে তারা কাগজকলমে দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই এ বাজারে সব সময় বাজার মনিটরিং থাকা জরুরি। দুই মাসের মসলার বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার অজুহাতে গত দুই মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মসলার বাজার। দুই মাস আগে জিরার দাম ছিল প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। বর্তমানে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এ সময়ে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে এলাচ। দুই মাস আগে যে এলাচ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন মানভেদে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। লবঙ্গের দাম প্রতি কেজি অন্তত ১৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দারুচিনির দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ও কালো গোলমরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া আদা, রসুন ও শুকনা মরিচের দামেও কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মসলার বাজারে সবচেয়ে বড় অরাজকতা দেখা দিয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের পার্থক্যে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কোনো মসলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লে খুচরা বাজারে তা গিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। খাতুনগঞ্জে যে জিরা ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, শহরের বিভিন্ন খুচরা বাজার বা মুদি দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এলাচের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। পাইকারি বাজারে জায়ফল ৭৫০ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। পাইকারি বাজারে দারুচিনি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৪০ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। ১ হাজার ২০ টাকার গোলমরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কবির হোসেন
অফিসঃ ১৮০-১৮১ (৮ম তলা), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণী, বিজয়নগর, ঢাকা – ১০০০
ফোনঃ ০২-২২২২২৮৭৮০, ফ্যাক্সঃ ০২-২২২২২৮৫১৫, মোবাইলঃ ০১৭৪৬-৬৪১২৮১, ০১৮৩৩-৯৩৮৫৭৯
Email : aideshaisomoy1977@gmail.com
২০০৫-২০২৫ © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | একটি গ্লোবাল পাবলিকেশন এন্ড মিডিয়া লিমিটেড প্রতিষ্ঠান