কারণ, সম্পর্ক মানেই ভিন্নতা। একেকজন মানুষ একেকভাবে ভালোবাসেন, একেকভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেন। কারও ভালোবাসা প্রকাশ্যে, কারও নিঃশব্দে। আর ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি, যাকে নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব।
তবুও গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক।
পুরুষরা কি বেশি ভালোবাসে?
খ্যাতনামা নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশারের গবেষণা বলছে, পুরুষরা ভালোবাসা ও সম্পর্ক নিয়ে তুলনামূলক বেশি আদর্শবাদী।
তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের অনুভূতি প্রকাশে আগ্রহী। অনেক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, নারীদের চেয়ে পুরুষরাই আগে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন। এমনকি কিছু আফ্রিকান সংস্কৃতিতে নারীদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা প্রকাশ করা খুব একটা প্রচলিত নয়।
এ কারণেই অনেক সময় বলা হয়, ‘যে পুরুষ তোমাকে তোমার চেয়ে বেশি ভালোবাসে, তাকে বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।’
এছাড়া ডেটিং বিশেষজ্ঞ জোনাথন বেনেট ও ডেভিড বেনেটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলক দ্রুত প্রেমে পড়েন এবং ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-এর মতো অভিজ্ঞতা সহজেই অনুভব করেন।
নারীরা কি ভালোবাসে বেশি গভীরভাবে?
নারীদের ভালোবাসা নিয়ে ধারণা কিছুটা ভিন্ন। সাধারণভাবে বলা হয়, নারীরা ভালোবাসাকে লালন করেন।
তারা হয়তো সময় নিয়ে সম্পর্কের দিকে এগোন, কিন্তু একবার জড়িয়ে গেলে সেই অনুভূতি অনেক গভীর হয়। এমন ধারণাও প্রচলিত যে, একজন গড়পড়তা নারী ভালোবাসা, ঘৃণা, কষ্ট কিংবা আনন্দ—সবকিছুই তুলনামূলক বেশি তীব্রভাবে অনুভব করতে পারেন।
কৈশোরে ছেলেরা অনেক সময় প্রায় প্রতিটি আকর্ষণীয় মেয়েকেই ভালো লাগার মানুষ ভাবতে পারে, যেখানে মেয়েরা সাধারণত একজন নির্দিষ্ট মানুষকে ঘিরেই অনুভূতি গড়ে তোলে। তবে এটাও সবার ক্ষেত্রে এক নয়, জীবনধারা ও ব্যক্তিত্ব ভেদে পার্থক্য থাকতেই পারে।
ভালোবাসা কি আসলে তুলনা করা যায়?
পুরুষরা সহজে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন বলে তারা কম ভালোবাসেন— এমনটা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি নারীরা গভীরভাবে অনুভব করেন বলেই তারা বেশি ভালোবাসেন—এটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।
কারণ, ভালোবাসা কোনো প্রতিযোগিতা নয়। এটি এমন একটি অনুভূতি, যা সংখ্যা বা তুলনার মাপে ধরা যায় না।
সম্পর্ক টিকে থাকার আসল শর্ত
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভালোবাসা একতরফা হলে সম্পর্ক টেকে না।
ভালোবাসা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা দু’জনের মধ্যে ভাগাভাগি হয়, প্রতিদান থাকে, বোঝাপড়া থাকে। বলা যায়, ভালোবাসা আসলে ভালোবাসারই ফল, যত বেশি দেওয়া যায়, ততই তা ফিরে আসে।
শেষ কথা
তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে বেশি ভালোবাসে—এই প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দু’জন মানুষ কতটা আন্তরিকভাবে একে অপরকে ভালোবাসছে। সংখ্যা নয়, অনুভূতির গভীরতা আর পারস্পরিক সম্মানই একটি সম্পর্ককে সুন্দর ও টেকসই করে তোলে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: কবির হোসেন
অফিসঃ ১৮০-১৮১ (৮ম তলা), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণী, বিজয়নগর, ঢাকা – ১০০০
ফোনঃ ০২-২২২২২৮৭৮০, ফ্যাক্সঃ ০২-২২২২২৮৫১৫, মোবাইলঃ ০১৭৪৬-৬৪১২৮১, ০১৮৩৩-৯৩৮৫৭৯
Email : aideshaisomoy1977@gmail.com
২০০৫-২০২৫ © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | একটি গ্লোবাল পাবলিকেশন এন্ড মিডিয়া লিমিটেড প্রতিষ্ঠান