অল্প সময়ের শরীরচর্চা মস্তিষ্কে ছোট ছোট ‘তরঙ্গ’ তৈরি করতে পারে। এগুলো স্মৃতি ধরে রাখতে এবং পরে মনে করতে সাহায্য করে।
আমরা অনেক সময় সহজ জিনিসও ভুলে যাই। কারো নাম, বাজারের তালিকা বা পরীক্ষার পড়া—এসব কিছুক্ষণ আগে মনে থাকলেও হঠাৎ করেই ভুলে যেতে পারি।
তবে নতুন কিছু শেখার সময় খুব সহজেই স্মৃতিশক্তি বাড়ানো যায়। কয়েক মিনিট এক্সারসাইজ, বাইক চালানো বা একটু দ্রুত হাঁটা এতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণা বলছে, এরোবিক বা কার্ডিও ব্যায়াম করলে স্মৃতি ভালো হয়।
ব্যায়াম মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিপোক্যাম্পাসকে শক্তিশালী করে।
এই অংশটি স্মৃতিশক্তির জন্য খুবই জরুরি। তাই নিয়মিত ব্যায়াম স্মৃতিতে ভালো প্রভাব ফেলে। যেমন—সপ্তাহে কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করলে হিপোক্যাম্পাসের আকারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরো কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম করার সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো কিছু শেখার চার ঘণ্টা পরে হাঁটলে স্মৃতি বেশি ভালো থাকে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম করলে সেই ফল কম পাওয়া যায়। শুধু স্ট্রেচিং করলে আবার তেমন উপকার হয় না।
তবে এত দিন বিজ্ঞানীরা ঠিক বুঝতে পারেননি যে এই প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। নতুন একটি গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, গবেষণায় ১৪ জন মানুষের মস্তিষ্ক ব্যায়ামের পরপরই পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরনের মধ্যে ছোট ছোট বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হচ্ছে। এগুলো স্মৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকেতগুলোকে বলা হয় ‘ব্রেন রিপলস’।
গবেষণার প্রধান মিশেল ভস বলেন, ‘যখন অনেক নিউরন একসঙ্গে সক্রিয় হয়, তখনই এই রিপলস তৈরি হয়।’ এই রিপলস ঘুম বা বিশ্রামের সময় স্মৃতি জমা রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছিলেন এমন এপিলেপসি রোগী, যাদের ওষুধে কাজ হচ্ছিল না। তবে তাদের মস্তিষ্কের সুস্থ অংশই পরীক্ষা করা হয়েছে।
গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্ককে নজরে রাখেন। তারা দেখতে চান, অল্প ব্যায়ামের পর কী ঘটে। দেখা যায়, ব্যায়ামের পর হিপোক্যাম্পাসে রিপলস বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত অন্য অংশেও একই প্রবণতা দেখা যায়। এতে মস্তিষ্ক আরো ভালোভাবে স্মৃতি ধরে রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
ভস বলেন, ‘এই সংকেতগুলো মস্তিষ্কের অন্য অংশের কার্যকলাপের সঙ্গে মিলে আরো ভালোভাবে কাজ করছিল।’
এই গবেষণায় নিউরোসার্জনদের সহায়তা নেওয়া হয়। এপিলেপসি অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড বসানো হয়। এতে ব্যায়ামের আগে ও পরে সরাসরি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ দেখা সম্ভব হয়।
ভস বলেন, ‘এতে আমরা সরাসরি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত দেখে বুঝতে পারি যে এটি কিভাবে কাজ করছে।’
এই রিপলস খুব দ্রুত ঘটে। সাধারণ স্ক্যানে তা ধরা পড়ে না। তাই এই গবেষণাই প্রথম দেখাল যে ব্যায়াম সরাসরি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে কিভাবে প্রভাব ফেলে।
গবেষকদের মতে, এ থেকেই বোঝা যায় কেন কিছু শেখার পর অল্প ব্যায়াম করলে মানুষ ভালোভাবে মনে রাখতে পারে। এতে বেশি সময়ও লাগে না। অল্প সময়ের ব্যায়ামই যথেষ্ট।
ভস আশা করেন, এই গবেষণা মানুষকে শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে। নিয়মিত অল্প ব্যায়াম শরীর ও মস্তিষ্ক- দুটোরই উপকার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার ব্যায়াম করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা মনোযোগ ভালো থাকে। একই সঙ্গে 'ভালো লাগার' হরমোন ডোপামিনও বাড়ে।
আরেকটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যত বেশি ব্যায়াম করি এবং যত বেশি ফিট থাকি, তত বেশি উপকার পাই। একবার ব্যায়াম করলেও মস্তিষ্ক লাভবান হয়।
এর কারণ, শরীর ফিট থাকলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন বেশি তৈরি হয়। এর নাম বিডিএনএফ। এটি মস্তিষ্কে নতুন সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে।
গবেষক ফ্লামিনিয়া রোনকা বলেন, ‘কেউ যদি ছয় সপ্তাহ একটানা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাহলে পরের প্রতিটি ব্যায়াম সেশন থেকে আরো বেশি লাভ পাওয়া যাবে।’
প্রকাশক ও সম্পাদক: কবির হোসেন
অফিসঃ ১৮০-১৮১ (৮ম তলা), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণী, বিজয়নগর, ঢাকা – ১০০০
ফোনঃ ০২-২২২২২৮৭৮০, ফ্যাক্সঃ ০২-২২২২২৮৫১৫, মোবাইলঃ ০১৭৪৬-৬৪১২৮১, ০১৮৩৩-৯৩৮৫৭৯
Email : aideshaisomoy1977@gmail.com
২০০৫-২০২৫ © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | একটি গ্লোবাল পাবলিকেশন এন্ড মিডিয়া লিমিটেড প্রতিষ্ঠান