ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘ডাবল ডায়াবেটিস’ কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? প্রাথমিক লক্ষণ, কারণ ও জটিলতা এড়ানোর উপায় নির্বাচনে জামায়াত কেন নারী প্রার্থী দেয়নি, যে ব্যাখ্যা দিলেন মারদিয়া মমতাজ ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এ–প্রাসাদ থেকে ও–প্রাসাদ—দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তাঝুঁকি নেই: ডিএমপি ইউরোপের বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়েও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি? সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড মেঘনায় জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে ডুবল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট

নির্বাচনে জামায়াত কেন নারী প্রার্থী দেয়নি, যে ব্যাখ্যা দিলেন মারদিয়া মমতাজ

এই দেশ এই সময় ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পঠিত

কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি কোনো আসনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেছেন, নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল গণতান্ত্রিক। দলের মজলিশে শুরায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে ৭০ শতাংশ নারী সদস্য জানিয়েছিলেন, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এক সম্মেলনে মারদিয়া মমতাজ এ কথা বলেন। ‘উইমেন, পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্যাল অর্ডারস ইন মুসলিম সোসাইটি কনটেক্সটস’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজক ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

সম্মেলনের একটি অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন করেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি কোনো আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটি নারী প্রার্থী দেবে কি না।

জবাবে মারদিয়া মমতাজ নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াতের পুরুষ সদস্যরা কারাগারে (আওয়ামী লীগ সরকার আমলে) থাকায় তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নারীদেরই সামলাতে হয়েছে। পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীরা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে তাঁরা তখন রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরোধী নয়। দলটি জুলাই সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। আগামী পাঁচ বছরে সেই প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এবার আমরা সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দিতে পারব। তবে ভবিষ্যতে পারব বলে আমরা আশা করছি। আমরা এর বিরোধী নই। কিন্তু নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতিও আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি।’

জুলাই সনদ এখনো বাধ্যতামূলক নয়

অধিবেশনে অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন করেন, নারী সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি জুলাই সনদে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) ছাড়াই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার রক্ষা না করলে দলটি ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় কি না।

জবাবে মারদিয়া মমতাজ বলেন, জুলাই সনদ এখনো বাধ্যতামূলক নয়। এটি এখনো সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে। কোনো দলই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্বের বিরোধী নয়। তবে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। বিএনপিতেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পেছনে কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত কারণগুলো বুঝতে হবে।

রাজনীতিতে নারীদের প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে: উমামা

একই অধিবেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী উমামা ফাতেমা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নারীদের প্রান্তিক করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার নিয়ে কথা বললে নারী রাজনৈতিক নেত্রীদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিএনপি, জামায়াত এবং তরুণদের যে রাজনৈতিক দল— সবার মধ্যে এ প্রবণতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।

এই সেশনে আরও বক্তব্য দেন ইউল্যাবের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক অবন্তি হারুন। এর আগে সম্মেলনের এজেন্ডা নির্ধারণ সেশনে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মোনা তাজালি। সেশনটি পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম।

সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে বক্তব্য দেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন এবং কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হোমা হুডফার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নির্বাচনে জামায়াত কেন নারী প্রার্থী দেয়নি, যে ব্যাখ্যা দিলেন মারদিয়া মমতাজ

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি কোনো আসনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি বলেছেন, নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল গণতান্ত্রিক। দলের মজলিশে শুরায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে ৭০ শতাংশ নারী সদস্য জানিয়েছিলেন, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এক সম্মেলনে মারদিয়া মমতাজ এ কথা বলেন। ‘উইমেন, পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্যাল অর্ডারস ইন মুসলিম সোসাইটি কনটেক্সটস’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজক ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

সম্মেলনের একটি অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন করেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি কোনো আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটি নারী প্রার্থী দেবে কি না।

জবাবে মারদিয়া মমতাজ নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াতের পুরুষ সদস্যরা কারাগারে (আওয়ামী লীগ সরকার আমলে) থাকায় তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নারীদেরই সামলাতে হয়েছে। পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীরা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে তাঁরা তখন রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরোধী নয়। দলটি জুলাই সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। আগামী পাঁচ বছরে সেই প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এবার আমরা সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দিতে পারব। তবে ভবিষ্যতে পারব বলে আমরা আশা করছি। আমরা এর বিরোধী নই। কিন্তু নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতিও আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি।’

জুলাই সনদ এখনো বাধ্যতামূলক নয়

অধিবেশনে অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান প্রশ্ন করেন, নারী সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি জুলাই সনদে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) ছাড়াই সনদে স্বাক্ষর করেছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার রক্ষা না করলে দলটি ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় কি না।

জবাবে মারদিয়া মমতাজ বলেন, জুলাই সনদ এখনো বাধ্যতামূলক নয়। এটি এখনো সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে। কোনো দলই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারী নেতৃত্বের বিরোধী নয়। তবে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। বিএনপিতেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পেছনে কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত কারণগুলো বুঝতে হবে।

রাজনীতিতে নারীদের প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে: উমামা

একই অধিবেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী উমামা ফাতেমা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নারীদের প্রান্তিক করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার নিয়ে কথা বললে নারী রাজনৈতিক নেত্রীদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিএনপি, জামায়াত এবং তরুণদের যে রাজনৈতিক দল— সবার মধ্যে এ প্রবণতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।

এই সেশনে আরও বক্তব্য দেন ইউল্যাবের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক অবন্তি হারুন। এর আগে সম্মেলনের এজেন্ডা নির্ধারণ সেশনে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মোনা তাজালি। সেশনটি পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম।

সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে বক্তব্য দেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন এবং কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হোমা হুডফার।