ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন ফিলিস্তিনপন্থি লুলা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় পঞ্চম ঢাকা নির্বাচনের আগে ইরান হামলা নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বে বিরোধ জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে নেমে প্রাণ গেল বাংলাদেশী তরুণের স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দিলে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সাথে গাদ্দারি হবে -প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়তে হবে : শিক্ষামন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডি-সিইও’র নিয়োগ বাতিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সাক্ষাৎ প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস

কমোডের এই দুই ফ্লাশ বাটনের কাজ কী, এর সঠিক ব্যবহার এত জরুরি কেন

এই দেশ এই সময় ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫ ১১৩২ বার পঠিত

কমোডের এই দুই ফ্লাশ বাটনের কাজ কী

আধুনিক কমোডে থাকে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাশের ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফ্লাশ বাটনে চাপ দিলে সব পরিষ্কার। খেয়াল করে দেখবেন, এসব আধুনিক কমোডে ফ্লাশের জন্য দুটি আলাদা বাটন থাকে। এর কারণ জানেন কি?

একটা সময় ছিল, যখন কমোডে ফ্লাশ করা হতো শিকল টেনে। শিকল টানলেই পরিষ্কার হয়ে যেত সব। সেখান থেকে আসে হাতল। হাতলের জমানা শেষে বাজারে আসে ফ্লাশ বাটন। শুরুর দিকে ফ্লাশ বাটন ছিল একটাই। এখনকার কমোডে ফ্লাশ বাটন থাকে দুটি করে। একটা ছোট, আরেকটা বড়। দুটির ব্যবহার ও কার্যকারিতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আলাদা দুটি বাটন মূলত ব্যবহার করা হয় পানি সাশ্রয়ের জন্য। যত দিন যাচ্ছে, সুপেয় পানির পাশাপাশি ব্যবহার্য পানির পরিমাণও কমে আসছে দুনিয়াজুড়ে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবহার্য পানির চাহিদা। দ্রুতই সেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হবে সবাইকে। তাই পানির অপচয় রোধ করাই সর্বোত্তম পন্থা। কমোডের ফ্লাশের সঠিক ব্যবহার সেখানে রাখতে পারে বড় ভূমিকা।

যেভাবে ফ্লাশ বাটনের সঠিক ব্যবহার পানির অপচয় রোধ করে

একটি কমোডের ট্যাংকে ৬–৯ লিটার পানি থাকে। বড় বাটন প্রেস করলে একসঙ্গে পুরো ট্যাংক খালি হয়ে যায়। সাধারণত বর্জ্য পরিষ্কার করতে পুরো ট্যাংকের পানি প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ছোট বাটনে খরচ হয় অর্ধেক ট্যাংক পানি। অর্থাৎ ৩–৪.৫ লিটার পানি। প্রসাবের পর তাই ছোট বাটনটি প্রেস করাই উত্তম। এভাবেই কমোডের ফ্লাশ বাটনের সঠিক ব্যবহার কমাতে পারে পানির অপচয়। ঠিকমতো ফ্লাশ ব্যবহার করে একটা বাসা থেকে বছরে প্রায় ২০ হাজার লিটার পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।

যেভাবে এল কমোডের ফ্লাশ বাটন

কমোডে ডুয়েল বাটনের প্রচলন হয়েছিল জাপানে। ষাটের দশকে একই সঙ্গে ফ্লাশ ও হাত ধোয়ার কমোড উদ্ভাবন করে তারা। সেই কমোডে দুটি ফ্লাশের হাতলের পাশাপাশি ছিল একটি হ্যান্ডওয়াশ বেসিন। বেসিনের হাত ধোয়া ময়লা পানি পুনরায় ব্যবহার করা হতো ফ্লাশের কাজে। তবে সে ডিজাইন খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। পরবর্তী সময়ে, ১৯৭৬ সালে মার্কিন ডিজাইনার ভিক্টর পাপানেক কমোডে ডুয়েল ফ্লাশ বাটনের প্রস্তাব দেন। তাঁর ‘ডিজাইন ফর দ্য রিয়াল ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে দেখা মেলে এই ডিজাইনের। ১৯৮০ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় এর ব্যবহার। ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে এটি জনপ্রিয়তা পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

কমোডের এই দুই ফ্লাশ বাটনের কাজ কী, এর সঠিক ব্যবহার এত জরুরি কেন

আপডেট সময় : ১০:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

আধুনিক কমোডে থাকে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাশের ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফ্লাশ বাটনে চাপ দিলে সব পরিষ্কার। খেয়াল করে দেখবেন, এসব আধুনিক কমোডে ফ্লাশের জন্য দুটি আলাদা বাটন থাকে। এর কারণ জানেন কি?

একটা সময় ছিল, যখন কমোডে ফ্লাশ করা হতো শিকল টেনে। শিকল টানলেই পরিষ্কার হয়ে যেত সব। সেখান থেকে আসে হাতল। হাতলের জমানা শেষে বাজারে আসে ফ্লাশ বাটন। শুরুর দিকে ফ্লাশ বাটন ছিল একটাই। এখনকার কমোডে ফ্লাশ বাটন থাকে দুটি করে। একটা ছোট, আরেকটা বড়। দুটির ব্যবহার ও কার্যকারিতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আলাদা দুটি বাটন মূলত ব্যবহার করা হয় পানি সাশ্রয়ের জন্য। যত দিন যাচ্ছে, সুপেয় পানির পাশাপাশি ব্যবহার্য পানির পরিমাণও কমে আসছে দুনিয়াজুড়ে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবহার্য পানির চাহিদা। দ্রুতই সেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হবে সবাইকে। তাই পানির অপচয় রোধ করাই সর্বোত্তম পন্থা। কমোডের ফ্লাশের সঠিক ব্যবহার সেখানে রাখতে পারে বড় ভূমিকা।

যেভাবে ফ্লাশ বাটনের সঠিক ব্যবহার পানির অপচয় রোধ করে

একটি কমোডের ট্যাংকে ৬–৯ লিটার পানি থাকে। বড় বাটন প্রেস করলে একসঙ্গে পুরো ট্যাংক খালি হয়ে যায়। সাধারণত বর্জ্য পরিষ্কার করতে পুরো ট্যাংকের পানি প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ছোট বাটনে খরচ হয় অর্ধেক ট্যাংক পানি। অর্থাৎ ৩–৪.৫ লিটার পানি। প্রসাবের পর তাই ছোট বাটনটি প্রেস করাই উত্তম। এভাবেই কমোডের ফ্লাশ বাটনের সঠিক ব্যবহার কমাতে পারে পানির অপচয়। ঠিকমতো ফ্লাশ ব্যবহার করে একটা বাসা থেকে বছরে প্রায় ২০ হাজার লিটার পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।

যেভাবে এল কমোডের ফ্লাশ বাটন

কমোডে ডুয়েল বাটনের প্রচলন হয়েছিল জাপানে। ষাটের দশকে একই সঙ্গে ফ্লাশ ও হাত ধোয়ার কমোড উদ্ভাবন করে তারা। সেই কমোডে দুটি ফ্লাশের হাতলের পাশাপাশি ছিল একটি হ্যান্ডওয়াশ বেসিন। বেসিনের হাত ধোয়া ময়লা পানি পুনরায় ব্যবহার করা হতো ফ্লাশের কাজে। তবে সে ডিজাইন খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। পরবর্তী সময়ে, ১৯৭৬ সালে মার্কিন ডিজাইনার ভিক্টর পাপানেক কমোডে ডুয়েল ফ্লাশ বাটনের প্রস্তাব দেন। তাঁর ‘ডিজাইন ফর দ্য রিয়াল ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে দেখা মেলে এই ডিজাইনের। ১৯৮০ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয় এর ব্যবহার। ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে এটি জনপ্রিয়তা পায়।